Home রাজনীতি হাফেজ ওমর ফারুক (রাহ.)এর জীবন ও কর্ম শীর্ষক আলোচনা সভা

হাফেজ ওমর ফারুক (রাহ.)এর জীবন ও কর্ম শীর্ষক আলোচনা সভা

0
SHARE

সমস্যা ও মতভেদকে প্রশ্রয় না দিয়ে লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হবে – মুফতী মুনির হোসাইন কাসেমী

ছাত্র জমিয়তের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও তরুণ আলেম হাফেজ মাওলানা ওমর ফারুক (রাহ.)এর জীবন ও কর্ম শীর্ষক এক আলোচনা সভা গত ২৯ নভেম্বর বুধবার জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা ছাত্র মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বারিধারাস্থ ছাত্র জমিয়তের উদ্যোগে এই আলোচনা ও স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তরা সদ্য প্রয়াত মাওলানা ওমর ফারুকের সাংগঠনিক নানা কর্মতৎপরতা ও ইতিবাচক ভূমিকার উপর আলোকপাত করে বলেন, এই ত্যাগী নেতাকে অমর করে রাখতে হলে তার ইতিবাচক কাজগুলোকে এগিয়ে নিতে হবে। তারা বলেন, ক্ষণস্থায়ী জীবনের এই অল্প সময়ের মধ্যেই মরহুম মাওলানা ওমর ফারুক অনেক হৃদয় গাঁথা স্মৃতি রেখে গেছেন। মাওলানা হাফেজ ওমর ফারুক আকাবিরদের সংগঠন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের রাজনৈতিক কর্মকান্ডকে এগিয়ে নিতে যে ত্যাগ-তিতীক্ষা স্বীকার করেছেন, সেটা থেকে আমাদের তরুণ নেতৃত্বকে উদ্দীপনা অর্জন করে দ্বীন প্রতিষ্ঠায় নিরবিচ্ছিন্ন কাজ করে যেতে হবে।

মারজানুল বারী সিরাজী ও নূর হোসেন সবুজ এর পরিচালনায় স্মরণ সভায় সভাপতিত্ব করেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় অর্থ-সম্পাদক ও জামিয়া মাদানিয়া বারিধারার মুহাদ্দিস মুফতী মুনির হোসাইন কাসেমী। বক্তব্য রাখেন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্মমহাসচিব ও জামিয়া মাদানিয়া বারিধারার নায়েবে মুহতামিম মাওলানা হাফেজ নাজমুল হাসান, কেন্দ্রীয় নেতা ও জামিয়া মাদানিয়া বারিধারার মুহাদ্দিস মুফতী জাকির হোসাইন, ছাত্র জমিয়তের সাবেক সভাপতি মুফতী শরীফুল ইসলাম, ছাত্র জমিয়তের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুফতী ইমরানুল বারী সিরাজী, ঢাকা মহানগর যুব জমিয়তের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ইসহাক কামাল, ছাত্র জমিয়ত ঢাকা মহানগরীর ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দীন আল আদনান, আব্দুল্লাহ আল মাহমূদ, আব্দুল্লাহ মাসরূর, মাহমুদুল হাসান, আহমদ আল হাবীব, ইমরান আল গাজী, মাসুদ হাসান প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে মুফতী মুনির হোসাইন কাসেমী বলেন, সমস্যা ও মতভেদকে প্রশ্রয় না দিয়ে লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হবে। হযরত হাসান বসরী (রাহ.) বলেছেন, মানুষ যখন প্রথম প্রথম ইবাদত-বন্দেগী ও নেক কাজ শুরু করেন, তখন রিয়ার উপস্থিতি দেখা যায়। রিয়া সহকারেই ইবাদত-বন্দেগী চালিয়ে যেতে হবে। ইবাদত করতে করতেই এক সময় রিয়া বিদায় হয়ে যাবে এবং আমলটাই থেকে যাবে। যে কোন একটা ভাল কাজ শুরু করলে, একটা সংগঠন শুরু করলে তাতে প্রথম প্রথম নানা সমস্যা সংকট থাকতে পারে, নেতা-কর্মীদের মধ্যে মিল-অমিল থাকতে পারে, একে অপরের প্রতি টিকাটিপ্পনি কাটতে পারে। এর মধ্য দিয়েই কাজ করে যেতে হবে, সংগঠনকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা জারি রাখতে হবে। সংগঠন জোরদার হতে হতে এসব সমস্যা-সংকট আস্তে আস্তে চলে যাবে, আর থাকবে না। কিন্তু কেউ এতে হতাশ হয়ে কাজ ছেড়ে দেয় তাহলে মনে করতে হবে শয়তানকে জিতিয়ে দেওয়া হল। ভাল কাজ বন্ধ হয়ে গেল। তাই কোন কাজ শুরু করতে গেলে ছোটখাটো বিষয়কে সমাধানের দিকে আনার চেষ্টাও করতে হবে এবং কাজকেও এগিয়ে নিতে হবে। কোনভাবেই হতাশাকে ও সমস্যাকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। এসবের মধ্য দিয়েই কাজকে এগিয়ে নিতে হবে। এর মধ্য দিয়েই সফলতা আসবে, ইনশাআল্লাহ।

মুফতী মুনির হোসাইন কাসেমী আরো বলেন, মনে রাখতে হবে, যেই মানুষ অন্যের উপকারে লাগে, তার দ্বারা অনেকে উপকৃত হতে পারে, সেই মানুষই হলো খাইরুন নাস বা উত্তম মানুষ। কিন্তু আমি মনে মনে ভেবে বসলাম যে, আমি বড় মানুষ। কিন্তু আমাকে দিয়ে দেশ ও দশের কোন উপকার হয় না, কোন সংগঠন উপকৃত হয় না, কোন সামাজিক কাজেও আমি লাগি না এবং দ্বীনের কোন কাজও আমার কারণে এগিয়ে যায় না, তাহলে আমি খাইরুন নাস না, আমি উত্তম মানুষ না।আমার জীবনকে সফল জীবন বলা যায় না। অনেকের দ্বারা আবার এই কাজগুলো হচ্ছে। যেমন মরহুম হাফেজ মাওলানা ওমর ফারুক (রাহ.)ও এদের মধ্যে একজন ছিলেন। তিনি উত্তম ধারার মধ্যে এমন একটি ধারা তৈরি করতে পেরেছিলেন, যাতে তিনি অনেকের জন্য প্রেরণাদায়ক হয়ে ওঠেছিলেন। যদিও তিনি আমাদের অনেক জুনিয়র ছিলেন, কিন্তু তার মধ্যে আমি প্রেরণা পাওয়ার মতো অনেক কিছু লক্ষ্য করেছি। সবসময় চেহারা হাস্যোজ্জ্বল থাকতো। দেখা হলেই মুছকি হেসে ওঠতেন। কোন সময় আমি তার মধ্যে ‘না’ বলতে কোন শব্দ শুনিনি। সংগঠনের যে কাজের কথা বললেই ইনশাআল্লাহ বলে কাজ শুরু করে দিতেন। কখনো কোন কাজের ঘাটতির কথা তুললে শুরুতেই বলে দিতেন, হেসে দিয়ে বলতেন ইনশাআল্লাহ আরো বেশী চেষ্টা করবো, দ্রুত কাজটা শেষ করে নেব।

মুফতী মুনির হোসাইন কাসেমী বলেন, যে কোন সংগঠন বা যে কোন প্রতিষ্ঠানের উন্নতির সংশ্লিষ্টদের এমন গুণ থাকাটা জরুরী যে, যে কোন কাজ হয়ে গেলে সেটা নিয়ে প্রশ্ন না তোলা, কোন কাজের ঘাটতি থাকলে নজরে আসার সাথে সাথে সেটাকে এগিয়ে নেওয়া এবং সবসময় চেহারায় হাসি ও উজ্জ্বলতা ধরে রাখা, হতাশাবোধকে প্রশ্রয় না দেওয়। আমি মরহুম মাওলানা হাফেজ ওমর ফারুক (রাহ.)এর মধ্যে এসকল গুণাবলীর সন্নিবেশ দেখেছি। পরম করুণাময় আল্লাহ তাকে আপন রহমতের ছায়ায় ঘিরে রাখুন এবং জান্নাতের উঁচু মাকাম দান করুন করুন।

(মুফতী মুনির হোসাইন-এর ভিডিও বক্তব্যটি দেখতে ক্লিক করুন এখানে)

প্রধান অতিথি হাফেজ মাওলানা নাজমুল হাসান বলেন, আমাদের সকলের কর্ম এমন হওয়া উচিত যে,আমরা থেকে চলে গেলেও যেন মানুষ আমাদেরকে শ্রদ্ধা ও সম্মানের সাথে স্মরণ রাখে। আর মানুষ কখন শ্রদ্ধা ও সম্মানের সাথে স্মরণ রাখে, যখন সৎ ও কর্তব্যনিষ্ঠভাবে জীবন যাপন করে এবং দ্বীনের জন্য ও মানব সেবার জন্য লক্ষ্যকে স্থির করে নিজের সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে মাধ্যমে সাধনা করে যায়। আমাদের স্নেহের হাফেজ মাওলানা ওমর ফারুক সাহেব ছিল সে রকমই সফল জীবনের অধিকারী একজন আলেম। অল্প হায়াতের মধ্যেও সে যেসব সৎ ও ভালগুলো করে গেছে, আমরা আজ সেগুলোকে আলোচনা করে উদ্দীপনা অর্জন করছি।

প্রধান আলোচক মুফতী জাকির হোসাইন বলেন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম আকাবিরদের গড়ে তোলা একটি সংগঠন। এর সাথে সরাসরি আকাবিরে দেবন্দের রূহানী সম্পর্ক রয়েছে। কাজেই এই দলের রাজনীতিতে দেওবন্দী উসূল তথা নীতি-আদর্শের উপর অটল থাকার বিষয়ে কোনরূপ আপোষ করা বা ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। সফল তরুণ নেতা হাফেজ ওমর ফারুকের কর্মতৎপরতাকে উদ্দীপনা হিসেবে গ্রহণ করে আমাদের তরুণ নেতৃত্বকে ত্যাগ ও সাধনার সাথে কাজ করে দলকে এগিয়ে নিতে হবে।

ছাত্র জমিয়তের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুফতী ইমরানুল বারী সিরাজী বলেন, ছাত্র রাজনীতিতে মরহুম হাফেজ ওমর ফারুকের অবদান ছিল অপরিসীম। তার মতো আদর্শ ও নীতির প্রতি অটল শূন্যতা সহজে পুরণ হবার নয়। ছাত্র জমিয়তকে সফলতার উচ্চাসনে আসীন করার উপর ওমর ফারুক ভাইয়ের কৌশল ও লক্ষ্যকে বাস্তবায়নের মাধ্যমেই তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে হবে।

হাফেজ মাওলানা ওমর ফারুক (রাহ.)এর জীবন ও কর্ম শীর্ষক আলোচনা সভায় ছাত্র জমিয়তের নেতৃবৃন্দসহ বারিধারা শাখা ছাত্র জমিয়তের কর্মী-সমর্থকরা শরীক ছিলেন। রাত ৯টায় আখেরী মুনাজাতের মাধ্যমে সভা শেষ হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here