Home শীর্ষ সংবাদ মাওলানা সাদ এর আগমন ঠেকাতে বিমান বন্দর এলাকায় হাজার হাজার আলেমের বিক্ষোভ

মাওলানা সাদ এর আগমন ঠেকাতে বিমান বন্দর এলাকায় হাজার হাজার আলেমের বিক্ষোভ

0
SHARE

মোশাররফ মাহমুদ (নিজস্ব প্রতিনিধি): দিল্লির নেজামুদ্দিনের বিতর্কিত মুরুব্বী মাওলানা সাদের বাংলাদেশে আসা প্রতিহত করতে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় জড়ো হয়েছেন কয়েক হাজার আলেম। তারা মাওলানা সাদ’এর বাংলাদেশে আসা বন্ধ করতে দাবী জানিয়ে বিক্ষোভ করছেন। বিক্ষুব্ধ আলেমদের দাবী, মাওলানা সাদ’কে তার সকল ইসলাম বিরোধী বক্তব্য প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে তাওবা করতে হবে এবং নিজামুদ্দীনে সকল মুরুব্বীকে ফিরিয়ে নিয়ে সর্বসম্মতিক্রমে তাবলীগের বিশ্ব মার্কাজটি পরিচালনার সকল প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে।

জানা যায়, হাজারও আলেমের উপস্থিতিতে গোলচত্বরের চারপাশে অস্থায়ী মঞ্চ স্থাপন করে চলছে আলেমদের বক্তব্য। বক্তৃতায় তারা বাংলাদেশে তাবলীগ জামাতের যে নিরপেক্ষ ও উজ্জ্বল ভাবমূর্তি রয়েছে, তা অক্ষুণ্ন রাখারও দাবি জানান। অস্থায়ী মঞ্চে বিমান বন্দর বাবুস্ সালাম মাদরাসার পরিচালক মাওলানা আনিসুর রহমান, মুফতি কিফায়াতুল্লাহ আজহারীসহ নেতৃস্থানীয় অনেক আলেম রয়েছেন। তারা একে একে বক্তব্য দিবেন বলে জানান মাওলানা সাইফুল ইসলাম। জানা গেছে, বিমান বন্দরের বিক্ষোভে বেফাকের মহাসচিব মাওলানা আব্দুল কুদ্দুসও শরীক হয়েছেন।

তাবলীগের বিতর্কিত মুরুব্বী দিল্লির মাওলানা সাদ এর আজ বিকেলে ঢাকা আসার খবর প্রকাশিত হলে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে আলেমরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন।

বেফাকের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ওলামায়ে কেরামের সিদ্ধান্তের বাইরে মাওলানা সাদ বাংলাদেশে এলে তা বরদাশত করা হবে না। তিনি বলেন, মাওলানা সাদকে আনার চেষ্টা করা হলে তা শক্ত হাতে প্রতিহত করা হবে। মাওলানা সাদ যতক্ষণ পর্যন্ত গোমরাহী ও ইসলাম বিরোধী আক্বিদা-বিশ্বাস বিরোধী বক্তব্য থেকে ফিরে এসে তওবা না করবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত তাকে বিশ্ব ইজতেমায় শরীক হতে দেয়া হবে না।

এদিকে জানা যায়, তাবলীগের চরম বিতর্কিত মুরুব্বী মাওলানা সাদ আজকে বাংলাদেশে আসছেন, এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে এই নিয়ে সারাদেশের আলেম সমাজ বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। মাওলানা সাদ কে ভিসা দিয়ে বাংলাদেশে আসার সুযোগ করে দেওয়ার জন্যও আলেমরা সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন। এ প্রসঙ্গে বিমান বন্দরের প্রতিবাদ সমাবেশে উপস্থিত মাওলানা আব্দুর রহিম বলেন, কয়েক দিন আগে আলেমদের সাথে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয়ের বৈঠকে সরকারের তরফ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যে, আলেমগণ যদি মাওলানা সাদ এর বাংলাদেশে আসা সমর্থন না করেন, তাহলে সেটাই হবে। অথচ আলেমদের সাথে সরকার প্রতারণা করেছে।

এদিকে,  ইজতেমাকে কেন্দ্র করে মাওলানা সাদ এর আজকে বাংলাদেশে আসাকে কেন্দ্র করে কাকরাইলের শূরা সদস্যদের মাঝেও প্রবল মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। কারণ, ওলামায়ে কেরাম ও শূরার সদস্যগণ সম্মিলিত হয়ে মাওলানা সাদের ইজতেমায় অংশগ্রহণ না করার পক্ষেই সরকারকে প্রস্তাব করেছেন। সরকারের তরফ থেকেও এই পরামর্শের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখানো হয়েছিল। এরপরও,  সব বাধা বিপত্তি এবং জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আজ বুধবার বিকেলে ইজতেমায় তিনি অংশগ্রগহণ করবেন বলে জানা যায়। এতে শূরার কোন সদস্যের ইন্ধন আছে কিনা, এই নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

অপ্রত্যাশিতভাবে মাওলানা সাদ এর আজকে বাংলাদেশে আসার খবর প্রকাশিত হয়ে পড়লে এই নিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন মাদ্রাসায় আলেমরাও দফায় দফায় বৈঠক করছেন বলে জানা গেছে। গতকাল রাত ১১টায় বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আসাদুজ্জামান খান কামালের ধানমন্ডীর কলাবাগানের বাসভবনে আলেমদের একটি প্রতিনিধ দল জরুরি বৈঠক করেছেন বলেও নির্ভরযোগ্য সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এদিকে,  আজ সকাল ৯টা থেকে দেশের শীর্ষ ওলামায়ে কেরাম এবং বেফাকের নেতৃবৃন্দ-এর উপস্থিতিতে বেফক কার্যালয়েও এই ইস্যুতে বৈঠক চলছে।

তাবলীগের বিতর্কিত মুরুব্বী দিল্লির মাওলানা সাদ এর আগমনের খবর প্রকাশিত হলে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাক কার্যালয়ের বাইরেও তাৎক্ষণিক বিক্ষোভে শামিল হন আলেমগণ।

বৈঠকে উপস্থিত আছেন, তাবলীগের পাঁচ উপদেষ্টার অন্যতম আল্লামা আশরাফ আলী, বেফাকের যুগ্ম মহাসচিব ও জামিয়া রাহমানিয়ার প্রিন্সিপাল মাওলানা মাজহফুজুল হক, মাওলানা নুরুল ইসলামসহ অসংখ্য উলামায়ে কেরাম। এ প্রসঙ্গে বেফাকের ‍যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন, মাওলানা সাদকে দেশে আনা হলে এদেশের আলেম উলামা, তৌহিদি জনতা ও তাবলিগী ভাইগণ প্রতিহত করবেন। তারা কখনো এমন অন্যায়কে মেনে নেবেন না। মাওলানা সাদ তাবলীগ জামাতের মধ্যে গোমরাহ তথা ভ্রান্ত মতবাদ ছড়িয়ে খালেস দ্বীনি এই বিশাল জামাতকে গোমরাহ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। মাওলানা সাদ তখনই আসতে পারবেন যখন তিনি তার বিতর্কিত বক্তব্য প্রত্যাহার করে প্রাকাশ্যে ঘোষণা দিবেন।

তিনি আরও বলেন,  আমরা বিভক্তি চাই না, ঐক্য চাই। নিজামুদ্দিনে যে বিভক্তি হয়েছে সেটি রেখে তারা আসতে পারবেন না। একত্রিত হলে ইজতেমায় অংশ নিতে পারবেন। আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত, দারুল উলূম দেওবন্দের মতামত প্রতিবেদন আকারে সরকারের কাছে জমা দিয়েছি। সেগুলো উপেক্ষা করে মাওলানা সাদকে আসার সুযোগ করে দেওয়া মেনে নেওয়া যায় না।

মাওলানা নুরুল ইসলাম বলেন, মাওলানা সাদ তার বিতর্কিত বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে এ দেশে তাকে আসতে দেওয়া হবে না। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আকিদা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড এবং বিতর্কিত বক্তব্য প্রত্যাহার করে অবিলম্বে জাতির সামনে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে তাকে। সবার সম্মতিক্রমে আমাদের এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। আমাদের মুরুব্বি আল্লামা আহমদ শফীর নেতৃত্ত্বে আমাদের এই পদক্ষেপ।

ধারণা করা হচ্ছে, বেফাক কার্যালয়ের বৈঠক থেকে মাওলানা সাদকে ইজতেমায় অংশগ্রহণ না করতে দেওয়া এবং বিমানবন্দর থেকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য দেশের আলেম সমাজের পক্ষ থেকে কঠোর কর্মসূচীর ঘোষণা আসতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here