Home জাতীয় মধ্যরাতে প্রাইভেটকারে তুলে ধর্ষণচেষ্টা: মাহমুদুল হক রনি নামে এক যুবক আটক

মধ্যরাতে প্রাইভেটকারে তুলে ধর্ষণচেষ্টা: মাহমুদুল হক রনি নামে এক যুবক আটক

এক তারুণীকে প্রাইভেটকারে তুলে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় মাহমুদুল হক রনি (৩২) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। গত শনিবার মধ্যরাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে কলেজগেট চেকপোস্টের কাছে এ ঘটনা ঘটে। রনি ও তার গাড়ি চালককে প্রাইভেটকার থেকে টেনে হেঁচড়ে বের করে গণধোলাই দেয় বিক্ষুদ্ধ জনতা। একপর্যায়ে চালক পালিয়ে গেলেও ধনীর দুলাল রনিকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ঘটনার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়ে পড়েছে। রোববার সকাল থেকেই এ নিয়ে চলছে তোলপাড়। রোববার বিকেলে ধর্ষণের অভিযোগে শেরে বাংলানগর থানায় মামলা করে ভুক্তোভোগী ওই তরুনী।

এদিকে, ওই ঘটনার ভিডিও ধারণ এবং ফেসবুকে শেয়ার করে রাফি আহমেদ সরদার নামে এক যুবক। নিমিষেই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে পড়ে। ভিডিওটি শেয়ার করার পর থেকে রাফিকে ফেসবুক ও মোবাইল ফোনে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, শনিবার মধ্যরাতে কলেজগেট সিগন্যালে মদ্যপ অবস্থায় রনিকে আটক করে জনতা। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, ওই সময় তিনি প্রাইভেটকারের ভেতরে এক তরুণীকে ধর্ষণের চেষ্টা করছিলেন। নিজেকে রক্ষার্থে তরুণী ধস্তাধস্তি করছিলেন।

তা দেখে সাধারণ জনগণ এগিয়ে গিয়ে রনির প্রাইভেরকারটি ঘিরে ফেলে। গাড়ির ভেতর থেকে সেই তরুণী, অভিযুক্ত মদ্যপ রনি ও গাড়িচালককে বের করে আনেন তারা।

গতকাল দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে শেরেবাংলা নগর থানার ওসি গণেশ গোপাল বিশ্বাস জানান, শনিবার রাত আড়াইটার দিকে কলেজগেট চেকপোস্টে রনিকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের সোপর্দ করা হয়। ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত দুই তরুণীর খোঁজ পাওয়া গেছে। রনি ও ওই তরুণীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কিন্তু দুই তরুণী ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিচ্ছে। তবে এদের একজন বিবাহিত। তার স্বামী হেরোইন মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন। আটক রনি থানা হেফাজতে রয়েছে, তার গাড়িটিও জব্দ করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ অনুযায়ী নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে রনি বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়েছে।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে রনি জানিয়েছে, সংসদ ভবনের সামনে থেকে টাকার বিনিময়ে দুই নারীকে প্রাইভেটকারে তোলা হয়। কিছুদূর গিয়ে একজনকে নামিয়ে দিতে গেলে তিনি চিৎকার করতে থাকেন। তখন ওই এলাকায় যানজট ছিল। পরে আশপাশের লোকজন না বুঝে তাকে ও তার চালককে গণধোলাই দিয়েছে। তার বাবা আইনজীবী এবং বড় ব্যবসায়ী। রনির বড় ভাই ব্যারিস্টার।

স্থানীয় জনতা এবং ভিডিও ফুটেজ সুত্রে জানা গেছে, রাজধানীর কলেজগেট সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থাকা প্রাইভেটকারের (ঢাকা মেট্রো-গ ২৯-৫৪১৪) ভেতরে এক তরুণীর সঙ্গে ধস্তাধস্তি করছিলেন রনি। ওই সময় আরেকটি গাড়িতে ছিলেন রাফি নামে এক যুবক। তিনি মনে করছিলেন গাড়ি নিয়ে পালানোর চেষ্টা চলছে। এর পর রাফিসহ সেখানে থাকা আরও কয়েকজন এগিয়ে গিয়ে রনির প্রাইভেটকারটি আটকে ফেলেন। তখন তারা দেখতে পান গাড়ির পেছনের আসনে রনি এক তরুণীকে ধর্ষণের চেষ্টা করছে। পরে জনতা গাড়ির ভেতর থেকে এক তরুণী, রনি ও তার গাড়ি চালককে বের করে আনেন।

জানা গেছে, রনি বিবাহিত এবং দুই সন্তানের জনক। পেশায় ব্যবসায়ী রনি নিজেকে যুবলীগ নেতাও পরিচয় দেন। রনি মাদকসেবী। ঘটনার রাতে গাজীপুরের কাপাসিয়ায় যাওয়ার জন্য ধানমন্ডির ঝিগাতলার বাসা থেকে নিজ গাড়িতে বের হন। গাড়ির মধ্যেই মাদক সেবন করেন। স্থানীয় জনতার হাতে ধরার পড়ার পর তার মুখ থেকে মদের গন্ধ বের হচ্ছিল।

রনির এই এঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন রাফি আহমেদ নামে এক ব্যক্তি। এ সময় রাফি মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন। সেই ভিডিও এখন ফেসবুকে ভাইরাল। রাফি আহমেদের পোস্টের পর রনিকে ফসবুক ব্যবহারকারীরা চিহ্নিত করেন এবং তার ফেসবুক আইডি শেয়ার করে বিচার দাবি করেন।

ভিডিওসহ দেয়া ওই পোস্টে রাফি আহমেদ লেখেন, আজ অফিস থেকে ফেরার পথে মোহাম্মদপুর, কলেজগেট সিগন্যালে ঠিক আমার সামনের গাড়িটাতে লক্ষ্য করে দেখি ভেতরে একটি ছেলে ও একটি মেয়ে ধস্তাধস্তি করছে এবং গাড়ির ড্রাইভারের গাড়ি চালানোর ভঙ্গিমা দেখে মনে হচ্ছিল যে, সে গাড়িটা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তবে দুর্ভাগ্য তাদের, রাস্তায় তীব্র জ্যাম থাকায় গাড়িটি বেশি দূর যেতে পারেনি। এমতাবস্তায় আমি আমার গাড়ি থেকে নেমে সামনে যেতে যেতে দেখি আরও কিছু লোক গাড়িটির দিকে লক্ষ্য করে এগোচ্ছে। তখনো ভাবতে পারিনি এতটা নিচ ও নিকৃষ্ট ঘটনার চাক্ষুস প্রমাণ হতে যাচ্ছি।

তিনি আরও লেখেন, আমি গাড়িটির কাছে যেতেই দেখি ছেলেটি মেয়েটিকে ধর্ষণ করছে। গাড়ির দরজা খুলে প্রথমে আমরা মেয়েটিকে বাইরে বের করে নিয়ে আসি, পরে অপর পাশের দরজা খুলতেই দেখি অতিপরিচিত সেই ছেলেটি অর্থাৎ বড়লোক বাবার বখে যাওয়া নষ্ট সন্তান। ছেলেটিকে বাইরে বের করতে গিয়ে সহ্য করতে হয়েছে বাজে মদের গন্ধ। আর নিজেকে সামলাতে পারলাম না। অতঃপর বসিয়ে দিলাম ওই জানোয়ারের কানের নিচে আমার বাম হাতের পাঁচ আঙুলের চিহ্ন। এরপর ক্ষুব্ধ জনতা চিলের মতো করে আমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে তাদের বাকি দায়িত্ব পালন করল। পরে মেয়েটির কাছ থেকে জানতে পারলাম— ওই নরপিশাচটা মেয়েটিকে রাস্তা থেকে জোর করে তুলে নিয়ে এসেছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, জনতা রনি ও তার গাড়ির চালককে বাইরে বের করে পিটুনি দিচ্ছে। এক পর্যায়ে রনি ও গাড়ির চালক উভয়কেই নগ্ন করে রাস্তায় মারধর করতে দেখা যায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.